নিজস্ব প্রতিবেদক
ইউক্রেন যুদ্ধ পঞ্চম বছরে গড়িয়েছে। বর্তমান রণক্ষেত্রে এখন ড্রোনের একচ্ছত্র আধিপত্য। আধুনিক যুদ্ধকৌশলের এই আমূল পরিবর্তন এখন সারা বিশ্বের নজর কেড়েছে।
কিয়েভ থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।
চার বছর আগে ট্যাংক আর বিশাল সেনাবাহিনী নিয়ে রাশিয়া পূর্ণমাত্রার আক্রমণ শুরু করেছিল। বর্তমানে সেই যুদ্ধের কৌশল বদলে দেওয়া প্রযুক্তিগুলোর ওপর একটি বিশেষ প্রতিবেদন নিচে তুলে ধরা হলো:
বেসামরিক কাজে ব্যবহার করা সস্তা ড্রোন থেকে শুরু করে বিস্ফোরকবাহী ছোট বিমান-সবই এখন যুদ্ধের মূল অস্ত্র।
ইউক্রেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর মতে, যুদ্ধক্ষেত্রে এখন ৮০ শতাংশ ক্ষয়ক্ষতির জন্য দায়ী ড্রোন।
পূর্ব ইউক্রেনে দায়িত্বরত ‘কোলেসো’ ছদ্মনামের এক পদাতিক সেনা জানান, ড্রোন ছাড়া আধুনিক যুদ্ধ এখন অসম্ভব। এখন রণক্ষেত্রের সম্মুখভাগ প্রায় ২০ কিলোমিটার (১২ মাইল) গভীর এক ‘কিল জোনে’ পরিণত হয়েছে।
সামরিক বিশেষজ্ঞ কাতেরিনা বন্ডার বলেন, ‘এটি দুই পক্ষের মাঝখানের এমন এক এলাকা যেখানে কোনো কিছুর টিকে থাকা কঠিন। কারণ, ড্রোনের মাধ্যমে সেখানে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হচ্ছে।’
ধরা পড়া এড়াতে সেনারা এখন সেখানে ছোট ছোট দলে খুব দ্রুত চলাচল করে। তাদের চোখ থাকে সবসময় আকাশের দিকে। ভারী কামান, ধীরগতির ট্যাংক বা সাঁজোয়া যানগুলো সহজেই ড্রোনের নজরে পড়ে যায়। তাই এগুলো এখন সহজ লক্ষ্যে পরিণত হয়েছে। বিপজ্জনক এলাকায় বাড়তি সেনা না পাঠিয়ে রসদ পাঠানো বা আহত সেনাদের সরিয়ে নিতে ইউক্রেন এখন স্থল-চালিত ড্রোন বা রোবটিক যান ব্যবহার করছে।
ড্রোন ও অপারেটরের মধ্যে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ বজায় রাখা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।